নাটক: জজ মিয়া 2.0?
খুনিরা খুবই পেশাদার কেউ হবে বলে ধারনা করা যায়, কিন্তু গ্রেফতার করা হয়েছে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই কথিত ইয়বাখোরকে। দুজনেই হিন্দু, মুগ্ধ দাস রংপুর নগরের সিটি বাজারে একটি মাছের দোকানে কাজ করে এবং সিদ্ধার্থ দাস নগরের একটি গয়নার দোকানে প্রায় আট বছর ধরে সোনার কারিগর হিসেবে কর্মরত আছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সিআইডি জানিয়েছে, নিহত চক্রবর্তীর পরিবারের সাথে গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবকের পূর্বে কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক শত্রুতা বা বিরোধের ছিল না, বরং সিদ্ধার্থ দাসের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।
গল্পটা এমন-
খুনিরা ইয়াবা খেতে গিয়েছেন গণপতি চক্রবর্তী স্যারের বাসার ছাদে কিন্তু স্যার তাদের দেখে ফেলেছেন, আর তাতেই চারজনকে হত্যা। কোনো চিৎকার চেচামেচি হলো না কিংবা হলেও কেউ তা শুনতে পেল না, পাড়া পড়শি কেউ টের পেল না। তারপর খুনিরা গোসল করলো, খাবার খেলো, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো, গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলো, এরপর শুনশান নীরবতা চললো দুদিন ধরে।
আচ্ছা এই খুনিদের নামে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিলো? এদের অপরাধের অতীত রেকর্ড সম্পর্কে কারো ধারণা আছে? যতটুকু জানতে পারলাম তাদের অপরাধের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড নেই। যারা কোনোদিন খুন করেনি তারা হঠাৎ করে এবং পুর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই চারজন মানুষকে খুন করতে পারবে? আবার সেই হত্যার পরে পালিয়ে না গিয়ে বরং গোসল করা, খাওয়া, হত্যার শিকার সবার মোবাইল বন্ধ করা, বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা, বাসায় ডাকাতি হয়েছে এমন পরিবেশ তৈরি করা, বাসার প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া; সবকিছু একেবারে ঠিকঠাক করে করা সম্ভব?
সময়ই সবকিছুর উত্তর দেবে।
তবে দেশ এখন কীভাবে চলছে আর কে চালাচ্ছে তা জানা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। এই জানাটা সময়ের উপর ছেড়ে দেয়া যাচ্ছে না।

Posted inViral
