শহরের প্রান্তে একটি নিরিবিলি বাগান। দিনের বেলা যেখানে মানুষের আনাগোনা থাকলেও রাত নামলেই জায়গাটি হয়ে ওঠে নীরব। সেই নির্জনতার সুযোগ নিয়েই এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে কয়েকজন ব্যক্তি নির্যাতন করেছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে একটি বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেখানে রাতভর তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
পরদিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ ওই নারীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি ওই নারীর পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এমন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, কোনো নারীর নিরাপত্তা যেন এভাবে হুমকির মুখে না পড়ে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে সচেতনতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন সহিংসতা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তাকে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা, আটকে রাখা বা নির্যাতন করা আইনত গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে তার চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনার পর ওই নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্বজনরা তার পাশে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মনোসামাজিক সহায়তা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে নারীর নিরাপত্তা ও সম্মতির গুরুত্ব। কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়ানো, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

