স্ট্রোক করে নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যু কেন বেশি হতে পারে?
স্ট্রোক একটি গুরুতর ও জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। অনেকের ধারণা, স্ট্রোক হলে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যু সবসময় বেশি হয়। তবে “সবসময়” বেশি—এমন কথা ঠিক নয়। মৃত্যুঝুঁকি নির্ভর করে রোগীর বয়স, স্ট্রোকের ধরন, চিকিৎসা পাওয়ার সময়, অন্যান্য রোগ এবং শারীরিক অবস্থার ওপর।
পুরুষদের মধ্যে কিছু ঝুঁকির কারণ তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। যেমন ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, স্থূলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব কারণ দীর্ঘদিন ধরে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত করলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং স্ট্রোক গুরুতর হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বয়স। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনামূলক কম বয়সেই স্ট্রোক হতে পারে। কম বয়সে স্ট্রোক হলেও যদি তা গুরুতর হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রেও স্ট্রোক অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে নারীরা সাধারণত বেশি বয়সে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে অন্য স্বাস্থ্যসমস্যা একসঙ্গে থাকতে পারে। ফলে নারীদেরও স্ট্রোকের পর গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু নারী বা পুরুষের ভিত্তিতে কার মৃত্যু বেশি হবে তা নির্ধারণ করা যায় না।
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে চিকিৎসা কত দ্রুত শুরু হয়েছে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হঠাৎ হাত বা পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ দেখতে সমস্যা হওয়া, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান বন্ধ করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হৃদ্রোগ বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, স্ট্রোকে পুরুষের মৃত্যু সবসময় নারীর চেয়ে বেশি—এটি সঠিক নয়। পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই স্ট্রোক মারাত্মক হতে পারে। ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই মৃত্যুঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

